বর্তমান সময়ে দেশি ও বিদেশি মিডিয়ার একটি বড় অংশ যেভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি, সরকার পরিচালনা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্টিং করছে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই তথাকথিত রিপোর্টিংয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিকৃতভাবে উপস্থাপন, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সরকারকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
আওয়ামী লীগের দাবি, এসব প্রতিবেদন অনেকাংশেই প্রমাণ ও বাস্তবতানির্ভর নয়; বরং কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপনা করছে। বিদেশি কিছু মিডিয়া যেমন বিবিসি, আল জাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস বা গার্ডিয়ানের মতো প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে দেখা যায়, তারা বারবার বিএনপি ও জামায়াতপন্থী সূত্র নির্ভর করে তথ্য পরিবেশন করছে, অথচ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সফলতার দিকটি উপেক্ষিত থাকছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, “দেশের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালাতে বিদেশি লবিস্ট ও মিডিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, যারা দেশে গণতন্ত্র চায় বলে দাবি করে, তারাই যখন নির্বাচন বর্জন করে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নালিশ করে, তখন প্রকৃত গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২5 পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে—GDP প্রবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ বহু খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। অথচ এসব ইতিবাচক দিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশ্লেষণে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। বরং, বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রচারিত প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারকে খবরের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ মনে করে, এ ধরনের রিপোর্টিং শুধু সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে না, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। দলটি স্পষ্টভাবে বলেছে—তথ্য স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার সকলের আছে, তবে সেটি যেন বাস্তবতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে হয়।
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দেশি-বিদেশি মিডিয়ার একচোখা রিপোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তারা এই অপপ্রচার রুখে দিতে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলকে যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ করেছেন, যেন বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে কোনো মিথ্যা প্রচারণা থামিয়ে দিতে না পারে।