সততার মুখোশ খুলে যাচ্ছে: ড. ইউনুসের সরকারের ভেতরের বাস্তবতা
ড. ইউনুস সবসময়ই নিজেকে সততার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থের সংঘাত গভীরভাবে ঢুকে গেছে। বিদেশে গিয়ে ‘সবাই একমত—এই সরকার সৎ’ বলে প্রচার চালানো হলেও, বাস্তবতা ভিন্ন। মাত্র সাত মাসে উপদেষ্টাদের এপিএস, পিএরা শত কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠছে—ছাত্রনেতা থেকে রাতারাতি ধনকুবের হয়ে ওঠা এই ব্যক্তিরা কী তাদের কর্তাব্যক্তিদের অজ্ঞাতসারে এসব অপকর্ম করেছেন?
মিথ্যার মুখপাত্র ইউনুস:
'এই সরকারের মধ্যে কোনো দুর্নীতি নেই'—দোহার এক আলোচনায় এমন বক্তব্য দেন ড. ইউনুস (জনকণ্ঠ, ২৪ এপ্রিল ২০২৫)। কিন্তু দেশে এসে তিনি এই কথা বলেননি, সম্ভবত তিনি জানেন এই কথায় মানুষ তাঁকে ট্রোল করে হাস্যরসের পাত্রে পরিণত করবে। কারণ, যাদের নিয়ে এই সরকার গঠিত—আসিফ মাহমুদের মতো উপদেষ্টা ও এনসিপির মতো সুবিধাবাদী দলগুলো—তারা ইতোমধ্যেই নানা দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে।
দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন: আসিফ মাহমুদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা
আসিফ মাহমুদের এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পিও-ও দুর্নীতির দায়ে আলোচনায় এসেছেন। নাটকীয়ভাবে তাদের অপসারণ করা হলেও, এরপর আসিফ আবার নিজেই ‘স্বাধীন তদন্তের’ আহ্বান জানিয়ে সেই নাটককে আরও দীর্ঘায়িত করেন। অথচ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনের ‘সরকার দুর্নীতিমুক্ত’ মন্তব্যের পর।
এমনকি আসিফের বাবার একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স সংক্রান্ত ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর, তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু এতেই কি দায়মুক্তি সম্ভব?
এনসিপি ও ছাত্রনেতাদের দুর্নীতির খতিয়ান
‘কোটা না মেধা’ স্লোগানের আড়ালে এনসিপির একাধিক ছাত্রনেতা সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পেয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালাউদ্দিন তানভীর পাঠ্যবই ছাপার কাগজে কমিশন বাণিজ্য ও ডিসি নিয়োগে হস্তক্ষেপের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি পেয়েছেন। অথচ এসব গুরুতর অপরাধে কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রেলপথে ছাত্রনেতাদের রাজত্ব
রেলপথ মন্ত্রণালয়ে তিন ছাত্রনেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাঁরা পরে টিকিট কালোবাজারি ও বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আলোচনায় আসেন। রেল ভবনে তাঁদের প্রভাব এতটাই যে কর্মকর্তারা পর্যন্ত তাঁদের সামনে নতজানু হয়ে পড়েন। প্রশ্ন হলো, এই দুর্নীতির তদন্ত হবে তো?
গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত
সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে নিজের অংশীদারিত্ব ১০%-এ নামিয়ে এনেছে—যা সরকার প্রধান হিসেবে ড. ইউনুসের স্বার্থের সংঘাতের দৃষ্টান্ত। পাশাপাশি নিজের দুর্নীতির মামলাগুলো থেকেও অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনা তাঁর নৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
বিদেশে গিয়ে মিথ্যাচার করে নিজের সরকারকে ক্লিনচিট দিলেও দেশের মানুষ জানে—আন্দোলনের নামে যারা রক্তপাত ঘটিয়েছে, তাদের দিয়ে আবার একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়া যায় না। প্রশ্ন থেকে যায়, আর কতদিন এই ভণ্ডামি চলবে?
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো – সংস্কার আর দুর্নীতি কি একসঙ্গে চলতে পারে