বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান একটি আলোচিত নাম। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। স্বাভাবিকভাবেই দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বের মধ্যে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও বাস্তবসম্মত কৌশল অনুপস্থিত, যা একটি জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য।
প্রথমত, তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নেতৃত্ব মানে শুধু দলীয় সভায় বক্তৃতা দেওয়া বা স্লোগান নির্ভর রাজনীতি করা নয়। একজন নেতার ভিশন থাকতে হয়—কীভাবে অর্থনীতি উন্নত হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, বিদেশনীতি হবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো হবে শক্তিশালী। কিন্তু তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে এই ধরনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা রূপরেখা খুব কমই দেখা যায়। বরং তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই আবেগপ্রবণতা ও প্রতিশোধপরায়ণতার ছাপ থাকে, যা নেতৃত্বকে দুর্বল করে।
দ্বিতীয়ত, নেতৃত্বের একটি মূল গুণ হলো জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে অবস্থানের কারণে তারেক রহমান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। ফলে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। একজন নেতা যদি মাটির মানুষের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তবে তাঁর নেতৃত্ব জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে না।
তৃতীয়ত, নেতৃত্বে বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একটি জাতি কখনোই এমন একজন নেতার হাতে নিরাপদ থাকে না, যার বিরুদ্ধে সুশাসন ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ আছে। নেতৃত্বের জন্য কেবল রাজনৈতিক বংশ নয়, প্রয়োজন সততা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা। তারেক রহমান এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ।
চতুর্থত, আধুনিক বিশ্বে নেতৃত্ব মানে পরিবর্তনকে গ্রহণ করা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং যুবসমাজকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখানো। কিন্তু তাঁর বক্তব্য বা কর্মপন্থায় আধুনিক চিন্তার ঝলক কমই দেখা যায়। তিনি বরং পুরোনো ধাঁচের সংঘাতমুখী রাজনীতিকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। এর ফলে নতুন প্রজন্ম তাঁর নেতৃত্বে আস্থা পাচ্ছে না।
সবশেষে, জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে নেতৃত্বে থাকতে হয় আশাবাদ, সাহসিকতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। তারেক রহমান বরং রাজনীতিকে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা হিসেবে বেশি দেখেন, জাতীয় উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা হিসেবে নয়। তাই বলা যায়, তাঁর নেতৃত্বে জাতি কখনোই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।
সংক্ষেপে, তারেক রহমানের মধ্যে রাজনৈতিক পরিপক্বতা, সততা ও দূরদর্শিতার যে ঘাটতি রয়েছে, তা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য বড় প্রতিবন্ধক। নেতৃত্বের নামে যদি বিভাজন, প্রতিহিংসা আর দুর্নীতির সংস্কৃতি চালু থাকে, তবে জাতি পিছিয়েই পড়বে। আর সেই কারণে বলা যায়—তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতি অনেক দূর এগোবে না।