ডিজিটাল পরাধীনতা নাকি নিরাপত্তা?—বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নজরদারির বেড়ে চলা প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন নাগরিক জীবনকে সহজ করছে, তেমনি বাড়ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিজিটাল নজরদারি। সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং সাইবার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—এই নজরদারি কতটা নিরাপত্তা রক্ষার অংশ এবং কতটা নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করছে।
বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরুদ্ধমত প্রকাশকারী নাগরিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেফতার বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক ভিন্নমত নয়, ব্যক্তিগত মতামত, ব্যঙ্গচিত্র বা মেম শেয়ার করাও এখন অনেকের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরি করছে।
বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টির মতো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক সংস্থা। এর মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগই রাজনৈতিক মতভেদজনিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকার বলছে—নিরাপত্তা ও গুজব রোধে এই নজরদারি প্রয়োজনীয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি ঠেকাতে এই ব্যবস্থা অপরিহার্য।”
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের নামে যদি ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তা হলে তা আর ডিজিটাল অগ্রগতি নয় বরং এক ধরনের পরাধীনতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, “নাগরিকদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে তাদের ‘চুপ’ করিয়ে রাখা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিহ্ন হতে পারে না। এটি একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত।”
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে বলেছে—নিরাপত্তার নামে যদি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে একটি ‘ডিজিটাল নজরদারি রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা?
উত্তর এখনও অস্পষ্ট, তবে আলোচনা এখন তীব্র।