২০২৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ৫ জুন হাইকোর্টের রায়, যেখানে ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করা হয়।
এই রায়ের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করে। তবে আন্দোলনটি দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ৭ জুলাই "বাংলা অবরোধ" কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাস্তাঘাট, রেললাইন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়। (Wikipedia)
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক নাহিদ ইসলাম। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের সমন্বয় করেন এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্দোলনের সময় সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় বহু শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হন। বিশেষ করে ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সায়েদের মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
সরকার আন্দোলন দমন করতে ১৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, কারফিউ জারি, সেনা মোতায়েন এবং ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। এই দমন-পীড়নের ফলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। (Wikipedia)
২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা কমিয়ে ৫% করার নির্দেশ দেয়, যা আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা নিহত ও আহতদের জন্য বিচার এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানাতে থাকে।
আন্তর্জাতিক মহল, যেমন জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো, সরকারের দমন-পীড়নের নিন্দা জানায়। শেষ পর্যন্ত, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন এবং নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠিত ছাত্র আন্দোলন একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।