নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলা বিএনপির একাংশ অভিযোগ করেছে, দলের সাবেক সদস্য জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবিত হয়ে দলকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। এ নিয়ে সোমবার দুপুরে বসুরহাটের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর আলম সিকদার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, চর এলাহী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ বিএনপির শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। নুর আলম অভিযোগ করেন, জামায়াতের ইন্ধনে এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, উপজেলা বিএনপিকে দুর্বল করে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবার জামায়াত বা এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখল–বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অথচ যিনি এ অভিযোগ করেছেন, তিনিই ঢাকায় জায়গা দখল করে রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন, পরে জামায়াত ঘনিষ্ঠ ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হন। নুর আলমের অভিযোগ—দলীয় কমিটি নিয়ে জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিলের হুমকি দিয়ে মূলত বিএনপিকে অস্থিতিশীল করাই তাঁর উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ও রোববার চর এলাহীর গাঙচিল এবং বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল রোড এলাকায় দুটি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চর এলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, তাঁর ভাই বেলাল হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক ইদ্রিস আহত হন।
এই হামলার পর রোববার রাতে বসুরহাটের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, “একসময় মির্জা কাদেরের ত্রাসের রাজত্ব ছিল কোম্পানীগঞ্জে। আমরা ভেবেছিলাম ১৬ বছরের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। কিন্তু আজও হাটবাজার, ঘাট দখল, লুটপাট ও চাঁদাবাজি চলছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন দলের নাম ও পদবী বিক্রি করে কিছু মানুষ সেই একই কাজ করছে।”
কোম্পানীগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করছে, স্থানীয় বিএনপি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বহিরাগত প্রভাবের কারণে অস্থিরতার মধ্যে আছে। এতে দলের তৃণমূল নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।