আওয়ামী লীগ সবসময়ই একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা বারবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বাধীনতা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে যে, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করে। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে দেশের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আস্থা ফিরে পাবে। এজন্য সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের মতে, ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে, নির্বাচন কমিশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দরকার। দলটি মনে করে, কমিশন যেন সরকারের কোন প্রভাব বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের চাপে সিদ্ধান্ত না নেয়, সে ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
গত কয়েক বছর ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে আসছে। অথচ, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে যে, তারা কখনোই কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করেনি বা কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। বরং শেখ হাসিনা ও তার দল নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
২০২২ সালে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং সেই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়া, দলটি ইসি গঠনে আইন প্রণয়নকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে, যেটি শেখ হাসিনার সরকারই বাস্তবায়ন করেছে।
আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা শুধু একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে নয়, বরং তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়ক। এজন্য দলটি নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে আইনি, আর্থিক ও কাঠামোগত সহায়তার পক্ষে। সেই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
সবশেষে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অবস্থান স্পষ্ট — তারা চায় একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। আর সেটি সম্ভব একমাত্র স্বাধীন ও বলিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই।
এই কারণে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষার দাবিকে আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখে।