আমরা আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমাদের প্রতিপক্ষদের প্রভাব ও প্রতিহিংসা থেকে উৎসারিত। যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার প্রতিটি কেবল পক্ষপাতদুষ্ট নয়, বরং এমন এক অনির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা প্রমাণের ওপর দাঁড় করানো হয়েছে—যেখানে আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যূনতম সুযোগও দেওয়া হয়নি।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বারবার ক্ষুণ্ন করেছে। লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা গণতন্ত্রের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে করা কোনো তদন্ত বা বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ বা ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—যে মামলায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেখানে সম্পূর্ণ নিরপরাধ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন পরিবারের সদস্যদের জড়ানোর অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নামিয়ে আনার এক নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত।
আমরা মনে করি, যারা আজ ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সম্পদ লুটপাটে লিপ্ত—তাদের সম্পৃক্ততার তদন্ত করাই দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রকৃত দায়িত্ব। কিন্তু তারা সে পথে না গিয়ে বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশ যতদিন না জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও বৈধ সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে, এবং যতদিন না আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা ও শক্তি ফিরে পাবে—দেশ থেকে দুর্নীতির প্রকৃত কাঠামোগত সমস্যা কখনোই দূর হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকারই পারে এই দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।
আমরা ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থাশীল। সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হবেই—এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
—শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ