Menu
Back to timeline

জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠা রাষ্ট্র। তবে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এ দেশের শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য মৌলবাদী শক্তি ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই শক্তিগুলো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। ফলে, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ অত্যন্ত জরুরি।

জঙ্গিবাদ কেবল নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি মানবতারও শত্রু। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ তার ভয়ঙ্কর রূপ দেখিয়েছে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, যখন একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর হলি আর্টিজান হামলা, জঙ্গি আস্তানায় অভিযান এবং বিভিন্ন সময়ে ব্লগার, লেখক ও মুক্তচিন্তার মানুষদের উপর আক্রমণ প্রমাণ করে যে, এই অপশক্তি সমাজে কতোটা ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। এসব ঘটনার প্রতিবাদে জনগণ, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে।

অপরদিকে, মৌলবাদী রাজনীতি একটি সুপরিকল্পিত মতাদর্শিক বিপদ, যা রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। মৌলবাদী দলগুলো সাধারণত ধর্মের আবরণে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করে থাকে। তারা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার বিরোধী। এই ধরনের রাজনীতি নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার অগ্রগতির বিরুদ্ধে কাজ করে। অতীতে দেখা গেছে, মৌলবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলো যখনই প্রভাবশালী হয়েছে, তখনই সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটি নাগরিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করা, শিক্ষায় মুক্তবুদ্ধিচর্চা উৎসাহিত করা এবং তরুণ সমাজকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করাই এই প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজকে একযোগে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে কাজ করেছে। দলটি বারবার মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের জঙ্গিবিরোধী অভিযান দেশবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির প্রসারের কারণে জঙ্গিবাদ এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিষবৃক্ষকে নির্মূল করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুধু তাৎক্ষণিক নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম। এই সংগ্রামে আমাদের ঐক্য, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধই পারে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও নিরাপদ একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।

More from the timeline

View all