খুলনার ফুলতলা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনিতে আলমগীর হোসেন (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার জামিরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর ডুমুরিয়া উপজেলার টোলনা গ্রামের হায়দার আলী মোল্লার ছেলে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে পাঁচ-ছয়জন মুখোশধারী মোটরসাইকেলে করে জামিরা বাজারের দুটি দোকানে যায় এবং ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়ে চলে আসে। পরে তারা বাজারের মাদ্রাসা রোডে জামিরা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মোল্লাকে খুঁজতে থাকে। তাঁকে না পেয়ে তারা প্রাণনাশের হুমকি ও অশ্রাব্য গালাগাল করে। এ সময় হুমায়ুন কবির বাজারের মাছ আড়তে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে তাঁর অনুসারীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভে নামেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিক্ষুব্ধরা বিকেলে পাশের টোলনা গ্রামের বাড়ি থেকে আলমগীরকে ধরে এনে জামিরা চৌরাস্তা মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানেই শুরু হয় গণপিটুনি। খবর পেয়ে ফুলতলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একপর্যায়ে আলমগীর কিছু বলতে শুরু করলে পুলিশের সামনেই তাঁকে আবারও মারধর করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “আলমগীরকে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে এনে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। অসংখ্য মানুষ তাঁকে মারছিল। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আলমগীর নাকি তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।
গণপিটুনি ঠেকানো গেল না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা কয়েকজন পুলিশ আর সেখানে হাজার হাজার মানুষ ছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা যাই, কিন্তু এরই মধ্যে ঘটনাটি ঘটে যায়। আমরা শুধু রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করতে পেরেছি।”