Menu
Back to timeline

কেন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে অনিবার্য মনে করেন তাঁর সমর্থকেরা

কেন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে অনিবার্য মনে করেন তাঁর সমর্থকেরা

একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জনগণের নিরাপত্তা কখনোই কাকতালীয়ভাবে আসে না। এগুলো নির্ভর করে দূরদর্শী নেতৃত্ব, কার্যকর প্রশাসন এবং দৃঢ় রাষ্ট্রপরিচালনার ওপর। বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের দিকে তাকালে উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে যে নামটি বারবার উঠে আসে, তা হলো শেখ হাসিনা।

সমর্থকদের মতে, গত দেড় দশকে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমান সময়ে যখন দেশ আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগের মুখোমুখি, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফিরে আসার দাবি তাঁদের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।

অভূতপূর্ব অগ্রগতির একটি অধ্যায়

ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করতে হলে অতীতের অভিজ্ঞতার দিকে তাকাতে হয়। সমর্থকদের দৃষ্টিতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়টি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এই সময়ে বাস্তবায়িত বেশ কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প দেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা বহুমুখী সেতু;
  • ঢাকা মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেল;
  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।

এই সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। "ডিজিটাল বাংলাদেশ" কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপও বাস্তবায়িত হয়।

অনিশ্চয়তার পথে বাংলাদেশের যাত্রা

লেখকের দৃষ্টিতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তাঁর মতে, এই সময়ের সহিংসতা, ভাঙচুর ও অস্থিরতা রাষ্ট্রের অবকাঠামো এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

লেখকের দাবি অনুযায়ী, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নীতিগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। একইভাবে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ও অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।

সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত নেতৃত্ব

লেখকের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি তাঁকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা যেভাবে দলকে পুনর্গঠিত করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সংকট থেকেও দেশকে পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা তাঁর রয়েছে বলে সমর্থকেরা বিশ্বাস করেন।

তাঁদের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগোতে সক্ষম হয়েছিল।

পুনরুদ্ধারের পথ

লেখকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শেখ হাসিনার অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন—

  • নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: তাঁর সরকারের সময় জঙ্গিবাদ দমনে নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছিল বলে সমর্থকেরা দাবি করেন।
  • আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক: বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
  • প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা: দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর হতে পারে বলে লেখকের মত।

উপসংহার

লেখকের দৃষ্টিতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি মনে করেন, দেশকে অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আবারও উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সময়ের দাবি।

More from the timeline

View all