কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলামকে হত্যার হুমকি এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দলীয় সম্মেলন আয়োজনের ঘটনায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দল।
আজ শুক্রবার বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম ভূঁইয়া এ নোটিশ জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে নিয়ে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পাশাপাশি নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির সম্মেলন আয়োজনের অভিযোগও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ে তাঁকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে গফুর ভূঁইয়াকে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, “আপনারে কে এখানে বসাইছে? আমি তাঁর কইলজা খুলিয়ালামু। আপনার কইলজাও খুলমু।” ওই রেকর্ডে কুমিল্লা জেলা প্রশাসককেও গালিগালাজ করতে শোনা যায় তাঁকে। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে অডিওটির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ভোলাইন উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে এ হুমকি দেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। যদিও ঘটনার পর গফুর দাবি করেন, অডিওটি তাঁর নয়, সম্পাদিত রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নাঙ্গলকোট উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়নে গত মঙ্গলবার বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়। পরদিন আরও সাতটি ইউনিয়নে সম্মেলন হয়, যেখানে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যত বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা জানিয়েছেন, সম্মেলনের কারণে বাধ্য হয়েই তাঁদের পাঠদান স্থগিত রাখতে হয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, “অডিও প্রকাশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সম্মেলনের ঘটনায় গফুর ভূঁইয়াকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দেওয়ার পর দল প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”