Menu
Back to timeline

কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও নারী ও শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা

কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও নারী ও শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন—যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন—বিদ্যমান থাকলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

তাদের মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত ১৩ মাসে দেশে অন্তত ৭৭৬টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বারবার সরকারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।


আইন আছে, কার্যকারিতা কোথায়?

সমালোচনা শুধু একটি সরকারের দিকে নয়; অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন Muhammad Yunus, এবং পরবর্তীতে Bangladesh Nationalist Party নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার—উভয়ের বিরুদ্ধেই কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা পূর্বে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলন, মানববন্ধন ও আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা যে আইনগত কাঠামো তৈরি করেছেন, তার বাস্তবায়ন দুর্বল হয়েছে কিংবা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়নি।


সংকটে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার

নারী নির্যাতনের শিকারদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারগুলো নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এগুলো তুলনামূলকভাবে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে অনেক কেন্দ্রই কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মানসিক সমর্থন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার যথাযথ বিচার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এতে বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে বর্তমান সরকার পুলিশের সক্ষমতা পুনর্গঠন বা শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। ফলে অপরাধ দমন ও বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে।


বিচারহীনতা ও অনানুষ্ঠানিক সালিশ

কিছু এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার পরিবর্তে গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে—যা বিচারহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়।

এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া প্রায়ই ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং অপরাধীদের জন্য দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি করে।


আইন ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া প্রমাণ করে আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বড় ধরনের ফাঁক রয়েছে।

এই ফাঁকই অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য অপরাধকে ঘটতে দিচ্ছে। নার্সিংদীতে এক কিশোরী এবং সীতাকুণ্ডে সাত বছরের এক শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনা—এ ধরনের বহু ট্র্যাজেডি এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করে।


সামনে বড় প্রশ্ন

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়—তার কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো:
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি রাষ্ট্র তার আইনকে বাস্তব শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে?

More from the timeline

View all