২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট—এক বছরের ইউনূস শাসন বাংলাদেশের ইতিহাসে নেমে এসেছে এক অন্ধকার, রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে। এ সময়টায় সংখ্যালঘু নির্যাতন শুধু বেড়েই যায়নি, বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পরিণত হয়েছে পরিকল্পিত জাতিগত নিধন অভিযানে। প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশ কি এখনও স্বাধীন রাষ্ট্র? নাকি তালেবানধাঁচের এক বিভীষিকাময় দেশে রূপ নিয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু পরিচয় মানেই মৃত্যু, ধর্ষণ বা দেশত্যাগ?
পরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিধনের নীলনকশা
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতাকেও ছাড়িয়ে গেছে এই এক বছরের চিত্র। ইউনূস সরকারের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় চলছে ধর্মীয় নিধনযজ্ঞ, জাতিগত নিপীড়ন আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা। রাষ্ট্রের নীরবতা আসলে এক ধরনের ভয়ঙ্কর মদদ, যা উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করছে আরও নৃশংস হতে।
পরিসংখ্যানই প্রমাণ
-
আগস্ট ২০২৪ – জুন ২০২৫: ২,৪৪২টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা—ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল।
-
৫ আগস্ট একদিনেই: ১,৪৫২টি হামলা—যা এক দিনের ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযানেরই প্রমাণ।
-
মাত্র ১৬ দিনে: ২,০১০টি হামলা—৬৯টি মন্দির আক্রান্ত, ১৫৭টি পরিবার ও ব্যবসা ধ্বংস।
-
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে: ২৭ জন সংখ্যালঘু নিহত, ২০টি ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা, ৫৯টি উপাসনালয়ে হামলা।
রক্তাক্ত ঘটনার ধারাবিবরণী
-
বরিশালের বিশারকান্দি গ্রামে হিন্দু পরিবারকে হত্যার হুমকি ও হামলা।
-
হবিগঞ্জে কলেজছাত্রী মোনপ্রিয়া সরকারকে অপহরণ করে নিখোঁজ করা।
-
কুমিল্লায় হিন্দু নারীকে ঘরে ঢুকে প্রকাশ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণ।
-
খিলখেতে সরকারি বাহিনীর হাতে দুর্গা মন্দির ভাঙচুর।
-
ঠাকুরগাঁওয়ের মানসা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দেশত্যাগের হুমকি।
রাষ্ট্রীয় নীরবতা ও উগ্রবাদের উত্থান
ইউনূস প্রশাসনের শাসনে রাষ্ট্র কার্যত উগ্রবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসা, জুমার খুতবা এমনকি সেনাবাহিনীর ভেতরও ঘৃণাবাদ ছড়ানো হচ্ছে। সেনা সদস্যরা মন্দিরে গিয়ে উপহাস করছে “হরে কৃষ্ণ” মন্ত্রকে, আবার লালমনিরহাটের এক ওসি প্রকাশ্যে সংখ্যালঘুদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিচ্ছে। এ কেমন আইনের শাসন?
উপসংহার: রক্তাক্ত বাংলাদেশ
এই এক বছরের শাসন প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশ এখন উগ্রবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়, আর সংখ্যালঘুদের জন্য কবরখানা। ১৯৭১ সালের হিন্দু নিধনের ভয়াল স্মৃতিকে আবার ফিরিয়ে এনেছে ইউনূস সরকার। আজ রাজনৈতিক ভিন্নমত নয়, কেবল ধর্মীয় পরিচয়ই যথেষ্ট—খুন, ধর্ষণ বা দেশ থেকে উৎখাতের জন্য।
ইউনূস শাসনের এক বছরই দেখিয়েছে—বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে জাতিগত নিধনের ভয়াবহ খেলা, যেখানে রাষ্ট্রই হয়ে উঠেছে নৃশংসতার রক্ষাকবচ।