Menu
Back to timeline

উপদেষ্টা কেন ফাইল বাসায় নিয়ে যান?

উপদেষ্টা কেন ফাইল বাসায় নিয়ে যান?

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোনো প্রকল্পের ফাইল মন্ত্রণালয়ে গেলে তা অনুমোদন করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল ‘গায়েব’ হয়ে যায় উল্লেখ করে মেয়র কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, প্রকল্পের ফাইল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বাসায় নিয়ে যান।

মেয়রের অভিযোগ কতটা সত্য আমরা জানি না, কিন্তু জনসমক্ষে তাঁর এ মন্তব্য নিঃসন্দেহে ‘দুঃসাহসী’। কারণ, তাঁর এক পূর্বসূরির পরিণতি নিশ্চয় তিনি বিস্মৃত হননি।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, যিনি তখন সরকারি দলের চট্টগ্রাম নগরের সাধারণ সম্পাদকও। তিনি সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এ অভিযোগ নিয়ে তখন সরকারি মহলে তোলপাড় হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মেয়র নাছিরের এ অভিযোগকে ‘গুরুতর’ বলে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছিলেন।

এরপর পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু ঘটনার সত্যাসত্য বিষয়ে কিছু জানার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি। তবে মেয়রের এ অভিযোগ যে সরকারের উচ্চ মহল ভালোভাবে নেয়নি, তার প্রমাণ পরে বিভিন্নভাবে পাওয়া গেছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই অংশের মেয়রকে পূর্ণমন্ত্রীর তো বটেই, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও খুলনার মেয়রকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হলেও চট্টগ্রামের মেয়রকে সে রকম কোনো পদমর্যাদা দেওয়া হয়নি। এমনকি পরবর্তী মেয়াদে নাছিরকে যে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নও দেওয়া হয়নি, তা-ও সেই ‘ঔদ্ধত্যেরই’ শাস্তি বলে মনে করেন অনেকে।

এসব উদাহরণ হাতের কাছে থাকার পরও বর্তমান মেয়র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গড়িমসি এবং উপদেষ্টার অনীহার প্রতি সরাসরি আঙুল তুললেন কেন? ঝুঁকির ব্যাপারটি মাথায় থাকার পরও অকপটে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার পেছনে নিশ্চয়ই ক্ষোভ-বেদনা জড়িয়ে আছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে মূলত উন্নয়নকাজ পরিচালনা করতে হয় বিভিন্ন প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে। হোল্ডিং ট্যাক্সের আয় থেকে সামান্য অংশই আসে। এখন সেই প্রকল্পগুলোর ফাইল যদি ওপরে গিয়ে আটকে থাকে, তাহলে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

More from the timeline

View all