Menu
Back to timeline

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সফর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্তব্য

ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সফর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্তব্য

এই সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক উপকমিটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। কিন্তু এই সফরটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক মানবাধিকারের ওপর ভয়াবহ আঘাত হানা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সংগ্রামে অর্জিত গণতন্ত্র আজ চরম হুমকির মুখে।

ইইউ প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে “সুশাসন ও মানবাধিকার উন্নয়নে সরকারের কর্মকাণ্ড” সম্পর্কে ধারণা লাভ করা। কিন্তু তারা যদি প্রকৃত বাংলাদেশকে জানতে চান, তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনই যথেষ্ট। কারণ বাস্তবতা হলো—আজকের বাংলাদেশে সুশাসন বা মানবাধিকার কোনো ক্ষেত্রেই উন্নতি ঘটেনি। বরং প্রতিদিনই চলছে গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি ও নিপীড়ন।

গণতন্ত্রবিরোধী কর্তৃত্ববাদী শাসন

বাংলাদেশ বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে এক অনির্বাচিত প্রধানের হাতে, যিনি বারবার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছেন। এর ফলে কোটি কোটি মানুষ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। রাজনৈতিক মতের কারণে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এমনকি বিচার বিভাগের সঙ্গেও যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর চলছে অমানবিক দমননীতি। তাদের অনেকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি, আবার কেউ কেউ চাকরি হারিয়েছেন।

সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে

আজকের বাংলাদেশে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরা নয়, বরং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নারী ও শিশুরা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান

আওয়ামী লীগ মনে করে, ইইউ প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে—ড. মুহাম্মদ ইউনুসের অধীনে বাংলাদেশে নিপীড়ন, আইনহীনতা ও কর্তৃত্ববাদ আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এই সরকারের হাতে রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি অন্যায় আটক, ভিন্নমত দমন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা সক্রিয় নাগরিক সমাজ—কোনোটিই টেকসই হতে পারে না, যতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধীদের অবৈধভাবে বন্দি রাখা হবে এবং ধর্মীয়–জাতিগত সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জনগণ একটি স্বাধীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে—যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।

More from the timeline

View all