Menu
Back to timeline

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন দৃঢ় মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

বুধবার বিকেলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে ঢাকা জেলা শাখার মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সভায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন তিনি তার প্রতিবাদ করেছিলেন। একইভাবে এখন বলছেন—আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দমনপীড়নের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণহত্যার ঘটনায় অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দল ও সহযোগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও অনেক মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আইন উপদেষ্টা ও পুলিশ মহাপরিদর্শক স্বীকার করেছেন যে অনেক মিথ্যা মামলা হয়েছে, তবুও আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আইনের মূলনীতি হলো—একজন নিরপরাধকে বাঁচাতে প্রয়োজনে দশজন দোষীকে ছেড়ে দেওয়া। অথচ এখনকার পরিস্থিতিতে একজন দোষীকে শাস্তি দিতে গিয়ে দশজন নিরপরাধকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িঘর ও অফিসে আগুন, মামলা-মোকদ্দমা ও দমননীতি দিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলছেন এবং বর্তমান সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করছেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ সুখে নেই, তারা আতঙ্কে বসবাস করছে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, তারা নির্বাচন চায় না। নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, ততই তাদের লাভ হবে। জনগণের স্বার্থ তাদের কাছে গুরুত্বহীন। “নির্বাচন চাই না” বলার অধিকার কারো নেই; সবাইকে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে—এটাই গণতন্ত্র। স্বৈরাচারী পথে গেলে টিকে থাকা সম্ভব নয়, কারণ এই দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্র মেনে নেয় না।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আইনের জটিলতা তৈরি করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, আর বর্তমান সরকারও একই কৌশল অবলম্বন করছে। দেশীয় রাজনীতিবিদ ও বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে সফল সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে, এবং চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হস্তক্ষেপ চলছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—আওয়ামী লীগকে যখন ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী বলা হয়, তখন বর্তমান সরকার যদি একই কাজ করে, তবে তাকে কী বলা হবে? পূর্ববর্তী সরকার দলীয় প্রতীক নিয়ে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছিল, এখন আবার সেই খেলা শুরু হয়েছে। সরকার তাঁদের পিছু লেগে রয়েছে; কোনো সুবিধা তো দূরের কথা, সাংবিধানিক অধিকারও ভোগ করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, জনগণের চোখে এখন তাঁর দলই সবচেয়ে নিপীড়িত।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিলসহ আরও অনেকে। তারা সকলেই দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন সম্ভব নয়। সকল রাজনৈতিক শক্তির সম্পৃক্ততা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁরা সতর্ক করেন, দমননীতি অব্যাহত থাকলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও বিভক্তি আরও গভীর হবে, যা অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

More from the timeline

View all