প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত আইসিটি রায় কোনো বিচার নয়; এটি ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধেই আক্রমণ। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল—এটি একটি সাজানো রাজনৈতিক নাটক, যেখানে রায় লেখা হয়েছিল আগে, বিচার নামের নাটক সাজানো হয়েছিল পরে। ট্রাইব্যুনাল কাজ করেছে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’-এর মতো, যেখানে অপরাধী নির্ধারিত ছিল আগেই, শুনানি-প্রক্রিয়া ছিল শুধু অভিনয়।
এটি আদালত নয়, রাজনৈতিক ফাঁদ
এই বিচার প্রহসনে credible সাক্ষী ছিল না, জেরা করার সুযোগ ছিল না, প্রমাণ ছিল না সঠিক আইনি যাচাইয়ের আওতায়। শেখ হাসিনাকে তাঁর নিজের আইনজীবী বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সরকারের মনোনীত এক “প্রতিরক্ষা দল”, যারা পুরো বিচারজুড়ে নিরব দর্শকের মতো আচরণ করেছে— যেন তারা আসামির নয়, অভিযোক্তার প্রতিনিধি।
এই বিচার ছিল প্রতিশোধের আদালত, সত্য অন্বেষণের নয়।
রায় আগে লেখা হয়েছে, বিচার ছিল শুধু রায়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর আবরণ।
‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’—রায়ের লক্ষ্য ছিল একটি মাত্র
আইসিটি ট্রাইব্যুনাল প্রথম দিন থেকেই একটি উদ্দেশ্য নিয়ে চলেছে: শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করা। আদালত ছিল না সত্য খোঁজার জায়গা; এটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে আইনি রূপ দেওয়ার যন্ত্র।
-
প্রসিকিউশন পেয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা, অপ্রমাণিত কথাও ‘প্রমাণ’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
-
ডিফেন্সকে করা হয়েছে প্রহসনের অংশ, আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে, মোশন বাতিল করা হয়েছে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।
-
বিচারকাজের প্রতিটি ধাপে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করার সংকেত ছিল স্পষ্ট।
এটি বিচারকের কক্ষে আইনের ভাষা নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত এক রাজনৈতিক স্ক্রিপ্টের অভিনয়।
একতরফা বিচার: অপরাধীদের রক্ষা, শেখ হাসিনাকে লক্ষ্যবস্তু
এই সাজানো বিচারের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক ছিল বাছাইকৃত ন্যায়বিচার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগীরা—যারা সহিংসতা, নাশকতা, পুলিশ হত্যা, রাজনৈতিক খুন এবং অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত, কোনো ট্রাইব্যুনাল, এমনকি অভিযোগও উত্থাপন করা হয়নি। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, আইনি সুরক্ষা, রাজনৈতিক সুরক্ষা—সব ঠিকই আছে।
অন্যদিকে:
-
বহু বছর আগে বাতিল হওয়া মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে,
-
প্রমাণবিহীন অভিযোগে নতুন করে ‘সাজানো পরিবর্তন’ আনা হয়েছে,
-
বিএনপি-জামায়াতের করা অভিযোগগুলোকে “স্বয়ংক্রিয় সত্য” হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে।
যেখানে উগ্রবাদীরা নিরাপদ, সেখানে শেখ হাসিনাই একমাত্র “লক্ষ্যবস্তু আসামি।”
এটাই এই মামলার আসল উদ্দেশ্য।
মিডিয়া ট্রায়াল: রায় ঘোষণার আগেই ‘গণমাধ্যমে দোষী’
আদালত যখন নাটক বানাল, তখন গণমাধ্যম হয়ে উঠল এই সাজানো বিচারের সবচেয়ে বড় অভিনেতা।
-
তথ্যহীন টকশো
-
প্রসিকিউশনের পরিকল্পিত “লিক”
-
রাজনৈতিক ভাষণের মতো সংবাদ কাভারেজ
যেখানে প্রশ্ন করার কথা ছিল, সেখানে সাজানো প্রোপাগান্ডা প্রচার করা হয়েছে। সংবাদ আর তথ্যের প্রতিবেদন হয়নি; করা হয়েছে ‘চিত্রনাট্যের প্রচার।’ আদালতের রায় আসার আগেই গণমাধ্যম দিয়েছিল ‘নিজেদের রায়।’
এ ছিল বিচারের বদলে মিডিয়া দিয়ে তৈরি জনমত-নির্মাণ।
রায়টি আইনি নয়: সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন, আইন বিকৃতি, প্রতিহিংসা
এই রায়ে—
-
শেখ হাসিনার নিজের আইনজীবী বেছে নেওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে,
-
ক্রস-এক্সামিনেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে,
-
ডিফেন্স সাক্ষীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে,
-
মাঝপথে আইন পরিবর্তন করে অভিযোগকে ‘বৈধ’ করা হয়েছে,
-
আদালতের নিরপেক্ষতা প্রশ্ন করার অধিকারও কেটে ফেলা হয়েছে।
এগুলো কোনো বিচারব্যবস্থায় বৈধ নয়।
এগুলো দণ্ড নিশ্চিত করার রাজনৈতিক পদ্ধতি।
অন্যদিকে, সরকারের ঘনিষ্ঠ, উগ্রবাদী এবং সহিংস রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা পেয়েছে পূর্ণ নিরাপত্তা, পূর্ণ স্বাধীনতা, এবং বিচারহীনতা।
এ রায় পূর্ব সিদ্ধান্তের অনুসারী; প্রমাণের নয়।
এটি প্রতিশোধ; ন্যায়বিচার নয়।
শেষ কথা
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি রায় আইনের নয়, শক্তির প্রদর্শন।
এ রায়ে বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনীতির অস্ত্র হিসেবে।
এটি শুধুই একজন নেত্রীকে অপসারণের প্রচেষ্টা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনি চরিত্র ধ্বংসের পরিকল্পনা।
ন্যায়বিচারের মুখোশ পরে অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া—এটাই এই রায়ের ভয়ংকর সত্য।