গোপালগঞ্জে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং যারা মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন, তাদের জন্য সহানুভূতি জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রপৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট: ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয় দেখানো ও দমন করা।
খবর আসছে, হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে, কারণ চিকিৎসা অস্বীকার করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
গোপালগঞ্জের এই হত্যাযজ্ঞের পর ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (এনসিপি) নামক অবৈধ সংগঠনের নেতারা প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য। এটি কেবল হত্যাযজ্ঞ নয়, একটি পরিকল্পিত গণহত্যার পূর্বাভাস।
গত কয়েক মাসের দমন-পীড়নের ঢেউ আড়াল করতে এই ফ্যাসিস্টরা এখন প্রতিটি সাধারণ নাগরিককে “আওয়ামী লীগ এজেন্ট” হিসেবে চিহ্নিত করছে। আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই গণহত্যার প্রকৃত সত্য আড়াল করার জন্য সরকারের প্রেস সেলের চালানো মিথ্যাচারকে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালিয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গণহত্যায় উস্কে দেওয়া এবং এই নৃশংসতাকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করা মানে হলো তাদের পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়া। এটি মানবাধিকারের সকল নীতিকে পদদলিত করে।
প্রশ্ন ওঠে: গত ১১ মাসে দেশজুড়ে যখন অপরাধ প্রবাহ তীব্রতর হয়েছে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এমন প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি? এর উত্তর স্পষ্ট—গোপালগঞ্জ হত্যাযজ্ঞ ছিল সুপরিকল্পিত, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য।
এনসিপি নেতাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীকগুলো ধ্বংস করা। তিনি যেহেতু গোপালগঞ্জে সমাহিত, তাই সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তারা ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। একইভাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, যেখানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চিরজাগরুক, সেটি ধ্বংস করতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় সহিংস জনতাকে ব্যবহার করেছে।
এর আগে থেকেই গোপালগঞ্জে ভিন্নমতাবলম্বী সাধারণ মানুষদের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল—হয়রানি, নির্বিচারে গ্রেফতার, শারীরিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন ছিল দৈনন্দিন চিত্র। সবকিছু পরিচালিত হয়েছে এনসিপি নেতাদের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী মানুষদের নিশ্চিহ্ন করা যায়।
মাত্র ১১ মাসে হাজারো ভিন্নমতাবলম্বী—সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী—কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাজানো হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শত শত নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে হেফাজতে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এই চলমান গণহত্যাকে আরও উসকে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ আজ একটি অবরুদ্ধ জাতি। গোপালগঞ্জ হত্যাযজ্ঞ কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংস করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।