সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রে কোনো পুলিশি অভিযান বা জাতীয় "রেড অ্যালার্ট" সাধারণত সত্যিকারের হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়—সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙন, কিংবা সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য।
কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সেই একই শব্দগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের অনির্বাচিত শাসনামলে “নিরাপত্তা অভিযান” আর নাগরিকদের সুরক্ষার ঢাল নয়; বরং তা পরিণত হয়েছে দোষী খুনি ও উগ্রপন্থী জঙ্গিদের জন্য রক্ষাকবচে। বার্তাটি স্পষ্ট: সরকারের অগ্রাধিকার আর ন্যায়বিচার বা জননিরাপত্তা নয়—বরং টিকে থাকা।
সন্ত্রাসীর জন্য রেড অ্যালার্ট—প্রতিবাদকারীর জন্য অভিযান
ইউনুস সরকারের ঘোষিত রেড অ্যালার্ট এখন আর সন্ত্রাসী ধরার জন্য নয়, বরং তাদের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করার জন্য। মামলা প্রত্যাহার, খালাস, এবং গোপন সমঝোতা ন্যায়বিচারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অন্যদিকে একই রাষ্ট্রযন্ত্র শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, বিরোধী আন্দোলন কিংবা সাধারণ নাগরিকদের ওপর নৃশংস দমন চালাচ্ছে, শুধু তারা সাহস করে কণ্ঠ তুলেছে বলেই।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা “হুমকি” হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, অথচ রক্তে হাত রাঙানো মানুষ অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে রাষ্ট্র একসময় রক্ষক ছিল, সে-ই আজ প্রধান শিকারি।
আইনের অপব্যবহার
এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের অপব্যবহার। একসময় এই আইন সাইবার অপরাধ রোধে ব্যবহারের জন্য প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু এখন এটি বিরোধী মত দমনের অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। ভুয়া মামলায় বিরোধী নেতাদের আদালতে টেনে আনা হয়, সাজানো সাক্ষী হাজির করা হয় বাধ্যগত বিচারকদের সামনে। গ্রেপ্তার, অভিযান ও বিচার পরিণত হয়েছে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের নাটকে।
এটি আইনের শাসন নয়—এটি আইনের নামে শাসন, যেখানে আইনকে ফাঁপা করে জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র বানানো হয়েছে।
জঙ্গি রক্ষিত, নাগরিক নিপীড়িত
এর ফল ভয়াবহ। যে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো একসময় প্রকাশ্যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, তারা এখন ভয়ঙ্কর অব্যাহতি নিয়ে চলছে। অন্যদিকে নাগরিকরা গণতন্ত্র দাবি করলেই নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য পুরোপুরি উল্টে গেছে: জঙ্গিদের সুরক্ষা, নাগরিকদের নিপীড়ন।
রাস্তায় ওঠা মানুষের আর্তনাদ
আজ বাংলাদেশ কার্যত অবরুদ্ধ। যে নিরাপত্তা বাহিনী একসময় জননিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হতো, তারা এখন আতঙ্কিত শাসনের প্রয়োগকারী। ভিন্নমত মানেই দমন, প্রতিবাদ মানেই জীবনের ঝুঁকি।
তবুও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—দমন কখনোই কোনো জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ করতে পারেনি। ন্যায়, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বাংলার দীর্ঘ সংগ্রাম সবসময় টিকে থেকেছে, আর যারা তা নিভিয়ে দিতে চেয়েছে তারা ইতিহাসের আঁধারে হারিয়ে গেছে।
আজকের রাস্তাঘাট থেকে ওঠা মানুষের আর্তনাদ স্পষ্ট এবং জরুরি:
রেড অ্যালার্ট যেন খুনিদের ঢাল না হয়। অভিযান যেন নাগরিকদের ভয় দেখানোর হাতিয়ার না হয়। নিরাপত্তা মানে হতে হবে জনগণের সুরক্ষা, কোনো শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার নিশ্চয়তা নয়।