অনির্বাচিত ইউনুস প্রশাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ
১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুই হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ বাংলাদেশি এতে অংশ নেন। তারা অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দমননীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা শোভাযাত্রা করে ডাউনিং স্ট্রিটে যান এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অবক্ষয়
স্মারকলিপিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে আইনের শাসন দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং গণতন্ত্রভিত্তিক বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধ্বংসের পথে। একটি অবৈধ ও অনির্বাচিত প্রশাসন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জনগণের অধিকারকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলও ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গণমাধ্যম দমন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং একটি প্রধান রাজনৈতিক দল ও তার সমর্থকদের ওপর দমননীতির তীব্র সমালোচনা করেছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণ
গত এক বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে কোটি কোটি মানুষ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জনগণের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
নির্বিচারে মামলা ও গ্রেপ্তার
প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেন, হাজারো নির্বিচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ইউনুস প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনে এক হাজারেরও বেশি পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই কয়েক লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও শত শত আওয়ামী লীগ সমর্থককে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাত্র দশটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮,৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের ওপর দমননীতি
শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের ব্যক্তিরাও টার্গেট হয়েছেন। যেসব সাংবাদিককে পূর্বতন সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল মনে করা হয়, তাদের মধ্যে ১৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ কেউ আবার মিথ্যা হত্যা মামলায় আটক রয়েছেন—যেখানে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত রাখা হয়েছে। এভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ
লন্ডনের বিক্ষোভকারীরা ইউনুস প্রশাসনের ক্ষমতা দখলের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ হামলার দিকেও ইঙ্গিত করেন। ক্ষমতা দখলের প্রথম তিন মাসেই হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দুই হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব টার্গেটেড সহিংসতা আজও অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান
স্মারকলিপিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তারা বলেন:
“যুক্তরাজ্য সরকার নীরব দর্শকের মতো বসে থাকতে পারে না, যখন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বাংলাদেশ আইনহীনতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের দুই দেশের ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজ ব্রিটেনে বসবাসরত লাখো বাংলাদেশি তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
আমরা ব্রিটিশ সরকারকে আহ্বান জানাই—অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা পায় এবং জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পায়।”